সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (বিবাহ পরবর্তী নাম সৈয়েদা কমলা) (মৃত্যু ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০১৩) ছিলেন একজন ভারতীয় লেখিকা। একজন আফগানকে বিবাহ করে তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে কাবুলীওয়ালার বাঙালী বউ নামে একটি স্মৃতিধর্মী পুস্তক রচনা করেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পাক্তিকা প্রদেশে ৪৯ বছর বয়সে তালিবান জঙ্গীদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

জীবন

বিবাহ

সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জুলাই তিনি কলকাতায় জানবাজ খান নামে এক আফগানকে গোপণে বিবাহ করেন। তার পিতা মাতা বিবাহের খবর জানতে পেরে তাকে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বললে তিনি জানবাজের সাথে আফগানিস্তান চলে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে তার স্বামীর আগেই গুলগুটি নামক এক মহিলার সাথে বিবাহ হয়ে গেছিল। এতদসত্ত্বেও তিনি খানের পাতিয়া গ্রামে পারিবারিক বাড়িতে থেকে যান। ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষিত সেবিকা হওয়ায় তিনি সেই গ্রামের মহিলাদের জন্য এক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলেন।

তালিবান শাসনে

আফগানিস্তানে তালিবান শাসন শুরু হলে, সুস্মিতা সেই দেশে মৌলবাদী শক্তির বিকাশ লক্ষ্য করেন। তালিবান শাসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি বন্ধ করার আদেশ জারীর পর ১৯৯৫ সালের মে মাসে তালিবানরা তার বানানো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আবিষ্কার করে তাকে প্রচন্ড মারধোর করে। এর পর তিনি দুইবার পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়লে তাকে গ্রামেঘরবন্দী করে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে এক ফতোয়ায় ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে জুলাই তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।.কিন্তু গ্রামের প্রধানের সহায়তায় তিনি তিনজন তালিবানকে একে-৪৭ রাইফেলের সাহায্যে গুলি করে গ্রাম থেকে পালাতে সফল হন। তিনি সেখান থেকে কাবুল পৌঁছে ১২ই আগস্ট বিমানে কলকাতা চলে আসতে সফল হন।.

পরবর্তী জীবন

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ অব্দি তিনি ভারতে বাস করেন ও বহু পুস্তক রচনা করেন। এই বছর তিনি আফগানিস্তান ফিরে যান এবং পাক্তিকা প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করেন। সেখানকার মহিলাদের জীবনযাত্রা নিয়ে তিনি একটি চলচ্চিত্র বানানো শুরু করেন।

মৃত্যু

আফগান পুলিশের মতে, সন্দেহভাজন তালিবান জঙ্গীরা ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা সেপ্টেম্বর পাক্তিকা প্রদেশে তার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে তার স্বামীকে বেঁধে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে প্রাদেশিক রাজধানী শারানা শহরের এক প্রান্তে এক মাদ্রাসার পাশে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার দেহে ২০টি গুলির ছিদ্র পাওয়া যায়। আফগান পুলিশের মতে তাকে সামাজিক কাজকর্ম ও তার লিখিত বইয়ের জন্য অথবা শুধুমাত্র ভারতীয় হওয়ার জন্য খুন করা হয় যদিও তালিবানরা জানায় তারা এই আক্রমণ করেননি। পরবর্তীকালে আফগানিস্তানের ইসলামি আন্দোলনের আত্মঘাতী দল নামক একটি তালিবানপন্থী জঙ্গীদল এই ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করে নেয়। মোল্লা নাজিবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন এই দলটির পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি জানান যে, তারা সুস্মিতাকে ভারতীয় চর বলে সন্দেহ করতেন বলে হত্যা করেছেন। যদিও সুস্মিতার প্রতিবেশীদের মতে তার মৃত্যুর জন্য বাড়ির বাইরে বোরখা না পরাও কারণ হতে পারে।

রচনা

সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে কাবুলিওয়ালার বউ নামে এক পুস্তক রচনা করেন। এই বইয়ে তার আফগান ব্যবসায়ী জানবাজ খানের সাথে প্রেম ও বিবাহ, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে আফগানিস্তানে চলে যাওয়া, তালিবান শাসনে মুখোমুখি হওয়া প্রতিকূলতা ও সেখান থেকে ভারতে পলায়ন, এই কাহিনী বর্ণিত আছে। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে তার বইকে ভিত্তি করে বলিউড থেকে এস্কেপ ফ্রম তালিবান নাম এক চলচ্চিত্র তৈরী হয়। এছাড়াও তিনি ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তালিবানি অত্যাচার – দেশে বিদেশে ও মুল্লাহ ওমর, তালিবান আমি এবং ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে এক বর্ণ মিথ্যে নয় ও সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী রচনা করেন।

জন্ম

কলকাতা, ভারত

মৃত্যু

৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৩ (বয়স ৪৮–৪৯)
পাক্তিকা প্রদেশ, আফগানিস্তান

উল্লেখযোগ্য রচনাবলি

কাবুলীওয়ালার বাঙালী বউ

দাম্পত্যসঙ্গী

জানবাজ খান

সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

এখানে আছে ০১টি বই ।
০১টি বই এর তালিকা নিচে দেয়া হলো :

সুচিপত্র 
১.মোল্লা, ওমর , তালিবান ও আমি ।
error: Content is protected !!